আসামের কার্বি আংলং জেলায় ভারতের একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় দেশটির বিমানবাহিনীর দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নিহত দুই পাইলট হলেন- স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পুরভেশ দুরাগকর।
বিমানবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার নকশা করা এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটি আসামের যোরহাট বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি রাডার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে যোরহাট ঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং জেলার গহীন বনাঞ্চলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে বিমানটির সাথে শেষ যোগাযোগ হয়েছিল।
এই দুর্ঘটনায় নিহত দুই মেধাবী পাইলটের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আইএএফ জানায়, বাহিনীর প্রতিটি সদস্য এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তারা আরও জানায়, এই কঠিন সময়ে আইএএফ পরিবার দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে থাকবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই যোরহাট থেকে উদ্ধারকারী দল ও হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং “মর্মান্তিক” দুর্ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
এর আগে, ২০২৪ সালের জুন মাসে মহারাষ্ট্রের নাসিকে একটি সুখোই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর একটি সুখোই-৩০ জেট বিধ্বস্ত হয়।
উল্লেখ্য, সুখোই এসইউ–৩০ এমকেআই একটি দুই আসনের, বহুমুখী ও দীর্ঘপাল্লার যুদ্ধবিমান। রাশিয়ার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সুখোই এটি তৈরি করেছে। বর্তমানে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল) লাইসেন্সের অধীনে এই বিমান তৈরি হচ্ছে।











